openly chat with bhaswati and anindita in lockdown quarantine period

লকডাউন এর মাঝে ঘরোয়া আড্ডায় অনিন্দিতা

লকডাউন এর মাঝে ঘরোয়া আড্ডায় অনিন্দিতা সাথে ভাস্বতী

নিজের কাজকে সবাই ভালোবাসে,শুটিং হচ্ছে না এই অনুভূতি টা কি ?

শুটিং হচ্ছে না এটা তো খারাপ লাগার ই বিষয় কারন প্রচন্ড একসাইটৈড ছিলাম বোম্বে তে একটি প্রোজেক্ট হচ্ছিলো এবং লকডাউনের ২ দিন আগে আমার চলে যাওয়ার কথা ছিলো। শুটিং যে হচ্ছে না অবশ্যই মন খারাপ কিন্তু এটা কখোনো ভাবিনি যে ভারতবর্ষ এরম একটা সময়সীমার মধ্যে চলে আসবে। কখনও ভাবিনি যে পৃথিবীব্যাপী এরম কিছু দেখতে হবে।ভেবেছিলাম এরম কিছু যখন হবে আমি তখন বেঁচে থাকব না।আমরা এরম একটা অবস্থায় আছি,এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় কিন্তু নিজেকে কৃতজ্ঞ এবং ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে যে আমার মাথার ওপর ছাদ আছে এবং খাওয়ার এর ব্যবস্থা রয়েছে। আর সৌরভ আমায় কম্পানি দেয়,আর আমার ৩ টে কুকুর,সময়টা ভালো ই কাটছে কারন এতোটা সময় কোনোদিন বাড়িতে থাকা হয় না সৌরভ আর আমার।রিতিমত আমরা একদমই সময় পাই না একসাথে সময় কাটানোর কারন আমাদের নিজেদের কাজ থাকে,আমি কলকাতায় থাকলেও ও প্রচন্ড ব্যস্ত থাকে শুটিং এ।

আচ্ছা…

সবার সাথে সময় কাটাচ্ছি এতে আমি খুবই খুশি কিন্তু এগুলো আমার টেনশন টা কমাচ্ছে না,চারিদিকে এতো মানুষের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে,এতো মানুষ মারা যাচ্ছে,আর আমাদের ভারতে এতো জনসংখ্যা যে সব সুবিধা সবার জন্য গ্রহণসাধ্য নয়,টেস্ট গুলি ঠিক করে হচ্ছে না,কারো হয়তো কোভিড হয়েছে -সে মারাও যাচ্ছে কিন্তু জানা যাচ্ছে না,এইসব কারণে প্রচন্ড দুশ্চিন্তা হচ্ছে আর আমি আশাকরি সবাই যেনো সুস্থভাবে এটা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারি। অনেকগুলো প্রোটোকল মানতে হবে যেমন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা। আমরা সবাই এই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে গেছি,গোটা বছর এই আতঙ্ক ভাবটা থাকবে,এগুলো নিয়েই ভয় এ আছি আবার আমার অবস্থা এতোটাও খারাপ নয় যে আমি আটকে আছি।

বাড়িতে বসে মোবাইলে কোনো শর্টফিল্ম করার পরিকল্পনা করছেন?

আমরা যখন কাজের মধ্যে থাকি না,তখন একদমই দুজন সিনেমা করতে চাই না।যদিও আমি সৌরভ কে প্রচন্ডভাবে অনুরোধ করছি একটা গান করার জন্য,যাতে আমরা ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতে পারি, কারণ এই সময় গান মানুষকে আনন্দ দেয়,লোকজন শুনতে ভালোবাসে। কিন্তু ও বাড়িতে বসে নিজেকে এতোটাই এনজয় করছে,যে ও করতে চাইছে না। ওর বেশ ভালোই দিন কাটছে,মাঝে মধ্যে আমায় সাহায্য করে দেয়। আমরা একসাথে বসে money heists শেষ করলাম ,সেখান থেকে আমি প্রচন্ড অনুপ্রানিত হয়ে স্প্যানিশ শেখার চেষ্টা করছি। কারণ এখন হাতে অনেক সময় আছে,আমি যা চাইবো সেটাই করতে পারি। নতুন নতুন রান্না ইউ টিউবে দেখছি আর বানাচ্ছি। আমি একদম রান্না করতে ভালোবাসি না,বলতে পারো রান্নাঘর জায়গাটাকেই প্রচন্ডভাবে ঘৃণা করি। এখন কোনো রাস্তা নেই,কারণ আমার কাজের লোককে ছুটি দিতে হয়েছে,ও অনেক দুর থেকে আসে,তো নিজেই যা যা করার করে ফেলছি।

সবচেয়ে পছন্দের যেই কাজটা,যেটা ব্যস্ততায় করতে পারো না,এরম কি কিছু করছো?

হ্যাঁ,অনেকটা সময় নিয়ে আঁকতে পারছি, এটা প্রচন্ডভাবে ভালো লাগছে আমার কারণ এই আঁকা আমার জন্য শ্বাস স্থান। আমি প্রচন্ড চাপা মনের মানুষ,আমি বেশি কথা বলতে পারি না,আমি আমার আবেগ প্রকাশ করতে পারি না,মানে কি অনুভব করছি,কি চলছে মাথায়,তো এই আঁকার মধ্যে দিয়ে আমি এগুলো বের করতে পারি। আমি যখন আঁকি তখশ ওটা আমার জন্যে একপ্রকার থেরাপির মতো কাজ করে।ছোটবেলায় আমি টানা ড্রয়িং করেছি,এখন কাজের জন্য একদমই সময় পাই না,সময় পেলেও এতোটাই ক্লান্ত থাকি,তখন শুধু বিশ্রাম নিতে ইচ্ছা করে অথবা নেটফ্লিক্স দেখি।কিন্তু এখন নিয়ম করে রোজ ২ ঘন্টা আঁকছি।


ইন্ডাস্ট্রিতে কর্নার প্রভাব পড়েছে তো ক্ষতি তো হবে থিয়েটারেও ক্ষতি হয়েছে এটা নিয়ে কি বলবে?

এমন একটা সিচুয়েশন আমি জানি যে এটা যদি আর বেশি মাস চলে একন আমিতো প্রচন্ডভাবে ড্রপ করেছে আমেরিকায় প্রচুর অনএম্প্লয়মেন্ট রেজিস্টার হয়েছে আমাদের পপুলেশন এতটা বেশি আমরা ঐ কাউন্টা করতে পারছিনা আমাদের দেশেও হয়েছে শুধু আশা করছি আমাদের ফিনান্স মিনিস্টার যারা ফিনান্স এক্সপার্ট আছে তারা একটা স্ট্র্যাটিজি বের করবে যেখানে আমরা একটু হলেও এখান থেকে ফিরে আসতে পারি যারা আমাদের টেকনিশিয়ান লেবার রয়েছেন তাদের জন্য কারণ এরা দিন আনে দিন খায় আর এখন সেটা হচ্ছে না আর এটা যদি আরো তিন মাস চলে তাহলে একটা প্রচন্ড বাজে সিচুয়েশন হবে ওদের জন্য কারণ শুটিং স্টার্ট হলেও সব প্রেকার্শন তো চলবেই আমাদের টিমে কম লোক নয় কাজ হবে তখন টেকনিশিয়ানরা মুখে মাক্স হাতে গ্লাভস পরে কাজ করবে কিন্তু আমাদের এক্টরদের ক্ষেত্রে সেটা চাপ হয়ে যাবে কারন আমরা ক্যামেরার সামনে তোমাক পড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারব না আমি জাস্ট ওয়েটিং যে আমাদের সিনিয়ররা একটাও খুঁজে পায় এন্ড যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুঁজে পেলে ভালো হয় এক মাস হতে চলেছে আমরা বাড়িতে বন্দী এরপর আর কিছু না লোকজন এমন খারাপ ভাবে প্যানিক করবে যে তাদেরকে একটা কিছু ভালো নিউজ দিলে আমার মনে হয় সেটা ভালো হবে যদিও গভমেন্ট অনেক কিছু করছে ইএমআই রেন্ট পিছিয়ে দিয়েছে এইসব গুলো ভালো বাট একটা কাজের ক্ষেত্রে ওরা যদি কোন একটা ভালো নিউজ দেয় তাহলে খুব ভালো হয় যেটা আমি জানি অনেক সময় লাগবে আমার তো এগুলো হোপ ফুল থিঙ্কিং মানে নেগেটিভ হলে তো চলবে না

এই মুহূর্তে ফ্যানদের কি বলবে?


তাদেরকে একটাই বলব যে বাড়িতে থাকো সেভ থাকো খারাপ ফিল করা শুরু করে দিও না যে বাইরে যেতে পারছিনা, তাদের কথা ভাবো যারা রাস্তায় আটকে রয়েছে আর যারা বাড়ি ফিরতে পারছে না কারণ তারা এক মাস ধরে ক্যাম্পে আটকে রয়েছে হয়তো খুব কম খেতে পাচ্ছে তাদের কথা ভেবে নিজেদেরকে খুব লাকি ফিল করো অনেকেই আছে যারা মেসেজ করে বলে যে বোর হচ্ছি কি করব মজার জন্য তারা যদি একটু তাদের কথা ভাবে যারা আটকে রয়েছে তাহলে আমার মনে হয় না আর বোর্ড লাগবে সেটাই বলব যে তাদের কথা ভেবে নিজেদেরকে প্রচন্ড হ্যাপি রাখার চেষ্টা করো আর কালকেই আমি একটা মেসেজ পাস করেছিলাম আমার ফ্যানদের যে অনেকে তাদের পেটস দের বের করে দিচ্ছে এই ভয়ে যে তাদের থেকে সংক্রামিত হবে অনেক জায়গায় এমন হয়েছে যে তাদের পোষা কুকুর রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে এইসব অনেক শুনেছি তাদেরকে আমি এটাই বলব যে একটু গুগলে গিয়ে পড়াশোনা করো আর সাইন্টিস্ট বারবার বলছে যে এনিমেলস দের থেকে মানুষ সংক্রামিত হয় না অনেকে বলছে আমার বিড়াল আছে আমার বিড়াল তো বাইরে গিয়ে ফিরে আসছে সেও আমাকে কোভিড 19 ডিসিজ টা দিতে পারবে না এটা হিউম্যান টু হিউম্যান কন্ট্রাক্ট, তো যদি বিড়াল বাইরে গিয়ে ফিরে আসে তাহলে তুমি নিজে গ্লাভস পরে একটু ডেটল দিয়ে মুছে তারপর রেখে দাও মানুষ তো মুখে কথা বলতে পারে ওরা যারা আমাদের ওপর ডিপেন্ডেন্ট একটু চারিদিকে ও দেখো জানি সবাই কাজের ব্যাপারে ভাবছে টাকার ব্যাপারে ভাবছে কিন্তু আমরা যদি একে অপরের পাশে না থাকি তাহলে এই সিচুয়েশন থেকে বেরোনো খুব টাফ,

থ্যাংক ইউ দিদি…